গত ১৭ বছর জুলুম নির্যাতন মোকাবিলা করে রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে বিপুল জনসমর্থনে এখন ক্ষমতায় বিএনপি। এমন এক সময় দলটি ক্ষমতার মসনদে, যখন ভঙ্গুর অর্থনীতি, সুশাসনের অভাব আর মব সহিংসতায় অস্থিরতা সবখানে।
বিরোধীদলের সারি থেকে সরকারের দায়িত্বে আসায় বদলে গেছে বিএনপির পরীক্ষার ধরনও। সরকার যখন পুরোনো ক্ষত সামলাতে ব্যস্ত, তখন বিরোধীদল মাঠে একাট্টা। ৭ মাস না পেরোতেই জামায়াতের নেতৃত্বাধীন বিরোধীদল সংসদে ও সংসদের বাইরে গণভোট বাস্তবায়নসহ নানা ইস্যুতে সরব।
জামায়াতের লংমার্চকে শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে দেখতে নারাজ ক্ষমতাসীনরা। তাদের ভাষ্য, আন্দোলনের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবনের সুযোগ করে দিচ্ছে জামায়াত। সেইসঙ্গে সংসদে কার্যকর ভূমিকার ঘাটতি আড়াল করতেই এই লংমার্চ। নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখতেও চায় দলটি।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন বলেন, ‘শেখ হাসিনার ভাষা এবং জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের ভাষার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই; ছাত্রলীগ এবং শিবিরের মধ্যে এই মুহূর্তে কোনো পার্থক্য নেই— সবার একই কথা।’
আরও পড়ুন:
এদিকে, জামায়াত এখনও পুরনো ধ্যান-ধারণা থেকে বের হতে পারেনি বলে মনে করেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু। তাদের হুমকি-ধমকি স্বৈরাচারী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ত্রাণমন্ত্রী ও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা দীর্ঘদিন যদি থাকে, তাহলে এই অবস্থার পরিবর্তন হবে। আর কেবল আঁতুড়ঘরের মধ্যেই যদি বলা হয় যে, সরকার পতন করতে হবে, তো সরকার কাজ করবে কখন? আমার মনে হয়, এখন পতিত স্বৈরাচারকে আনার কোনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে কি না, সেটা জনগণ বিচার-বিশ্লেষণ করবে।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও নাজুক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে জামায়াত। দলটির এই তৎপরতা রাজনীতির পানি ঘোলা করলেও, মাছ শিকার যে তাদের পক্ষে সম্ভব নয়— এমনটাও মনে করেন তারা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারুফ মল্লিক বলেন, ‘ঘোলা পানিতে জামায়াত মাছ শিকার করতে পারবে না, অন্যরা এসে মাছটা শিকার করে নিয়ে যাবে। সেই জায়গা থেকে আমার মনে হয়, জামায়াতের আরও বেশি সতর্ক হওয়া উচিত। এই মুহূর্তে লংমার্চে যাওয়া জামায়াতের একটা অর্বাচীন আচরণ এবং তাদের আরও পরিপক্ব আচরণ করা উচিত।’
জামায়াতের কর্মসূচি নয় বরং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে জনমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিএনপিকে জোর দেয়ার পরামর্শ এই বিশ্লেষকের।





