রাজশাহীতে আজ (শনিবার, ১৭ অক্টোবর) ভোর থেকেই শুরু হয় সপ্তমী তিথি। এই তিথিতে জাগ্রত হন দেবী। তারই প্রাণ প্রতিষ্ঠায় মন্দির-মণ্ডপগুলোতেই সকালেই ঘট স্থাপন করেন পুরোহিতরা। আসন, বস্ত্র, চন্দনসহ ১৬ উপচারে সাজানো হয় দেবীর বেদি। ধূপ-ধুনা, ঢাকের তাল, উলুধ্বনিতে মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে পূজা করেন ভক্তরা। নবপত্রিকা স্থাপনের মধ্য দিয়ে আরাধনা করা হয় দেবীর প্রকৃতি রূপের শক্তিকে।
ভক্তদের মধ্যে একজন বলেন, ‘মায়ের কাছে প্রার্থনা যে মা সবার মনে শান্তি নিয়ে আসুক, প্রশান্তি দিক। আমরা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এই উৎসব পালন করে থাকি। সবার শান্তির জন্য আমরা আরাধনা করি, প্রার্থনা করি।’
একজন পুরোহিত বলেন, ‘ভক্তরা সবাই মিলে এসে পূজা দর্শন করছে। বিশ্ব শান্তির জন্য, সবার মঙ্গল হোক—এসব কামনা করে মায়ের কাছে প্রার্থনা করছি।’
আরও পড়ুন:
সিলেটের বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে সকাল থেকে সপ্তমী পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। আয়োজকরা জানান, শাস্ত্র অনুসারে মহাসপ্তমীতে দেবী দুর্গার সবচেয়ে ভয়ানক রূপ কালরাত্রি রূপের পূজা করা হয়। বিশেষ রীতি মেনে স্নান করানো হয় দেবী দুর্গাকে। এদিন দেবীর তৃতীয় চক্ষুদান করা হয় বলেও জানান তারা।
ভক্তদের মধ্যে একজন বলেন, ‘মহাসপ্তমী মায়ের পূজা-অর্চনা শেষে আমাদের অঞ্জলি প্রদানের মধ্য দিয়ে, মায়ের প্রতি মায়ের চরণে অঞ্জলি নিবেদনের মধ্য দিয়ে দিনটি শুরু হয়। হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবাই মিলে সম্মিলিতভাবে একসঙ্গে আমরা কাজ করবো এবং দেশের জন্য আমরা এগিয়ে যাবো।’
ভোরে নবপত্রিকা স্নানের মধ্য দিয়ে বরিশালের মন্দির ও মণ্ডপগুলোতে শুরু হয়েছে মায়ের আরাধনা। প্রাণ প্রতিষ্ঠার পর সকাল থেকেই ভক্তরা ফুল, বেলপাতা নিয়ে অঞ্জলি দেন। ঢাকের বাদ্য, ধুনুচির ধোঁয়া আর প্রসাদ বিতরণে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে পুরো শহরে। নিরাপত্তায় মণ্ডপে মণ্ডপে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
বগুড়ার ৭৩১টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব চলছে। সপ্তমী তিথিতে জাগ্রত হয় দেবী। মহাশ্নান, চক্ষুদান ও দর্পণ প্রদর্শন করে মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে প্রতিমায় দেবীর উপস্থিতি প্রতিষ্ঠা পায়।
আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে সকাল থেকে মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে সপ্তমীর নানা আনুষ্ঠানিকতা। নবপত্রিকা স্থাপন ও আরাধনাসহ চলছে নানা আয়োজন। এরইমধ্যে চট্টগ্রামের জেএম সেন হলে ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন ঘিরে চলছে বাড়তি প্রস্তুতি। সকালে পূজা মণ্ডপ ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখেন এসএসবির কর্মকর্তারা।
চট্টগ্রামের এসআরবি-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা সর্বদা সতর্ক এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আমাদের পর্যাপ্ত গোয়েন্দা দল এবং অভিযানিক দল কাজ করে যাচ্ছে।’
ময়মনসিংহে ঢাক-ঢোল, কাঁসরের ঘণ্টা, উলুধ্বনি আর মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে পূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন পুরোহিত। এবছর জেলায় ৭৮১টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
দিনাজপুর ও জয়পুরহাট জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় এবার ২১০টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেবী দুর্গার আগমনে সমাজ থেকে অনাচার-পাপাচার দূর হবে, সবার মধ্যে সুখ-শান্তি ফিরবে—এমনটাই প্রত্যাশা ভক্তদের।




