শিক্ষায় বাজেট বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি: বাস্তবায়নের সক্ষমতাই বড় চ্যালেঞ্জ

জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাত ও শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীরা | ছবি: এখন টিভি
1

এক দশকে শিক্ষায় বরাদ্দের হার যেমন কমেছে, তেমনি কমেছে বাস্তবায়নের সক্ষমতাও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নয়, প্রয়োজন কার্যকর পরিকল্পনা ও জবাবদিহিতা। বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষায় বাজেট জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার ঘোষণা বাস্তবে রূপ নেবে কিনা, তা নির্ভর করছে বাস্তবায়নের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর।

অর্থবছর ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৫-২৬। এক দশকে জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতের অংশ কমেছে প্রায় ১৪ শতাংশ থেকে নেমে ১২ শতাংশের ঘরে। জিডিপির অংশ হিসেবেও ব্যয় কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৫৩ শতাংশে, যা আগে ছিলো প্রায় ২ দশমিক ৪৯ শতাংশ। অথচ ইউনেস্কো সুপারিশ করে জিডিপির অন্তত ৪ থেকে ৬ শতাংশ শিক্ষায় ব্যয় করার।

তবে বরাদ্দ যা-ই থাকুক, পুরোটা খরচই হচ্ছে না। প্রতিবছরই শিক্ষা বাজেটের একটি অংশ ফেরত যাচ্ছে। গবেষণা বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাজেট বাস্তবায়নে সক্ষমতার হার কমে প্রায় ৯৫ শতাংশ থেকে নেমে এসেছে ৮৭ শতাংশে।

এর মধ্যেই নতুন পরিকল্পনায় শিক্ষাখাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিএনপি সরকার।

তবে প্রশ্ন উঠছে বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে। যেখানে জিডিপির দেড় শতাংশ ব্যয়ই পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না, সেখানে ৫ শতাংশ কতটা সম্ভব? শিক্ষাবিদদের মতে, আগে বাস্তবায়নে দক্ষতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প কমিয়ে গুরুত্ব দিতে হবে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে।

আরও পড়ুন:

শিক্ষা গবেষক অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘একটি রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে। তিন বছর, দুই বছর বা চার বছরে তারা জিডিপির ৫ শতাংশে পৌঁছাবেন। ইউটিলাইজ করতে হবে বরাদ্দ, যেটি দেয়া হবে তা যেন সুন্দর ও সুষম হয়। শিক্ষকের মান উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের রিডিং ম্যাটেরিয়েলের উন্নয়ন, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন করতে হবে, আবার একই সঙ্গে বিল্ডিংও বানাতে হবে।’

শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প নেই। তবে সেটা রাতারাতি নয়, শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলছেন, বাজেট ফেরত, অপচয় ও দুর্নীতি এ তিনটিকেই শক্তভাবে মনিটরিং করে ধীরে ধীরে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে শিক্ষার বাজেট।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘সামনে গিয়ে অনেক প্রোজেক্ট হয়তো আমরা বন্ধ করে দেবো। অনেক প্রজেক্টের ছড়াছড়ি, সবগুলো প্রজেক্ট হয়তো আমরা একই ছাতার নিচে নিয়ে আসবো। জবাবদিহিতা আমরা বাড়ানোর চেষ্টা করছি। সবার যেন দায়বদ্ধতা থাকে কাজে। সেক্ষেত্রে দুর্নীতি কমাবো। আর কাজ ঠিকভাবে হলে যে বাজেট বরাদ্দ ছিলো সেটি রিইউজও সঠিকভাবে বাড়বে।’

শিক্ষায় বরাদ্দকৃত অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করার সক্ষমতা যেমন অর্জন করতে হবে, তেমন আ এ খাতে ধীরে ধীরে বাজেটের ৫ শতাংশ বাড়ানোর পরামর্শ শিক্ষাবিদদের। সেই সঙ্গে এ অর্থ যেন অনর্থক ব্যয় না হয় সেদিকেও রাখতে হবে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি।

এফএস