তিন দিকে ভারতীয় সীমান্তবেষ্টিত জেলা পঞ্চগড়ে আধুনিক সদর হাসপাতাল, একশ শয্যার বিপরীতে যেখানে দিনে রোগী ভর্তি থাকছে তিনশো’র বেশি।
হাসপাতালের মেঝে, বারান্দা, করিডোরসহ সবখানেই রোগী। কোনো কোনো বেডে থাকছে দু’জন। অন্যদিকে, ৩৭ জন চিকিৎসকের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ১৪ জন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বেশিরভাগ পদই খালি।
রোগী ও রোগীদের স্বজনরা জানান, এত বড় হাসপাতাল হলেও চিকিৎসকদের সময়মতো পাওয়া যায় না। তাদের দাবি, যেন হাসপাতালে ভালো মানের চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হয়।
১০০ শয্যার হাসপাতালটির যখন এতো নাজুক অবস্থা, তখন তার পাশেই পড়ে আছে দেড়শো শয্যার ৯ তলার চকচকে ভবন। হস্তান্তরের ২ বছর পেরিয়ে গেলেও চালু করা হয়নি নতুন এ চিকিৎসাকেন্দ্র।
ভুক্তভোগীরা জানান, অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন ধরনের হয়রানির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। এতে তাদের আর্থিক সংকট যেমন হচ্ছে তেমনই ভোগান্তিও বাড়ছে।
গণঅভ্যুত্থানের পরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নতুন ভবনে চিকিৎসা সেবা স্থানান্তর করতে চিকিৎসা সেবা তহবিল গঠন করে স্থানীয় উদ্যোগে কেনা হয় জিনিসপত্র। তারপরও চালু হয়নি দেড়শো শয্যার হাসপাতাল।
আরও পড়ুন:
পঞ্চগড় সম্মিলিত স্বেচ্ছাসেবী ফোরামের সমন্বয়ক আহসান হাবিব সরকার বলেন, ‘১০০ জনের জায়গায় প্রতিদিন প্রায় ৩০০ রোগী এখানে এসে ভর্তি হচ্ছে। এ হাসপাতালের পেছনেই রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের জন্য আরেকটি ১৫০ শয্যার দালান প্রায় ২ বছরের বেশি সময় ধরে রেডি অবস্থায় আছে। সেটা চালুর কোনো উদ্যোগ নেই।’
শহরের সরকারি হাসপাতালটিকে ২০০৫ সালে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। তখন থেকেই শুরু হওয়া চিকিৎসক সংকটের সমাধান হয়নি আজও।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাসুদ হাসান বলেন, ‘এই মুহূর্তে প্রায় ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ রোগী প্রতিদিন ইনডোরে ভর্তি থাকে। কিন্তু আমাদের শয্যাসংখ্যা হলো ১০০। এছাড়া বহির্বিভাগে আমাদের প্রায় ৩০০ রোগী প্রতিদিন দেখতে হয়। এক্ষেত্রে প্রায় ২০০ রোগীকে আমাদের ফ্লোরে বা বারান্দায় রাখতে হয়। এটা আসলে অমানবিক।’
পঞ্চগড়ের সিভিলি সার্জন ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমাদের আসলে যে চিকিৎসকরা আছে, তাদের দিয়ে এত পরিমাণ রোগীদের কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা দিতে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছি। নিয়মিতভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে এখানে চিকিৎসক দেয়ার জন্য। এ বিষয়ে আমরাও বেশ আশাবাদী।’
সব অনিয়ম দূর করে খুব দ্রুতই সেবা নিশ্চিত হবে—এমনই প্রত্যাশা এ জনপদের মানুষের।




