নিহত গৃহবধুর নাম চায়না খাতুন (৪০)। তিনি ওই গ্রামের শুকুর আলীর স্ত্রী। সুজানগর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাদিক আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হাটখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাফিউল ইসলাম রাজা গ্রুপের সঙ্গে মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা গ্রামের বিএনপি সমর্থক ইসলাম প্রামাণিক গ্রুপের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। গতকাল (রোববার, ২২ মার্চ) দিবাগত রাতে দু’পক্ষের ছেলেদের মধ্যে মারামারি হয়। এ নিয়ে গত রাত থেকেই দু’গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।
সকালে ইসলাম প্রামাণিক গ্রুপের লোকজন লাঠি সোটা নিয়ে এলাকায় জড়ো হচ্ছিলো। এমন সময় রাজা গ্রুপের লোকজন লাঠি সোটা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপরে হামলা চালিয়ে গুলিবর্ষণ ও বাড়ি ভাঙচুর করে। গুলিতে গৃহবধূ চায়না খাতুন ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এছাড়া গুরুতর আহত ১০ জনকে উদ্ধার করে সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
এ বিষয়ে ইসলাম প্রামাণিক বলেন, ‘আমার ভাগ্নে ফরহাদ আওয়ামী লীগ সমর্থক ছিল। এজন্য রোববার রাতে ভিটবিলা বাজারে তাকে মারধর করে রাজা গ্রুপের লোকজন। আমি খবর পেয়ে তখনি সেখানে গিয়ে ঘটনা শুনে তাদেরকে এ বিষয়ে মারামারি না করার অনুরোধ করি। কিন্তু তারা উল্টো আমার ওপরও হামলা করে মারধর করে। খবর পেয়ে আমার গ্রামের লোকজন জড়ো হয়ে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেয় মুরুব্বিদের সঙ্গে বসে আলোচনা করে এ বিষয়ে সমঝোতা করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘সকালে আমরা বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় রাজার গ্রুপের লোকজন লাঠিসোঠা অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে রাজার নেতৃত্বে এসে অতর্কিত আমাদের গ্রামের লোকজনের উপরে গুলি ও হামলা চালায়। এতে গুলিতে স্পটে মারা গেছে চায়না খাতুন। আরও আট থেকে দশজন আহত হয়েছে। তাদেরকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
অভিযুক্ত রাফিউল ইসলাম রাজা বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। ঘটনার সময় আমি স্পটেও ছিলাম না। আমার এক আত্মীয়ের বিয়ের দাওয়াত খেতে আসছি। এখানে আমার নাম জড়ানো ষড়যন্ত্রমূলক। গুলিবর্ষণ হয়েছে কি না বা গুলিতে চায়না খাতুন মারা গেছে কি না আমি জানি না। আমি শুনেছি চায়না খাতুন স্ট্রোক করে মারা গেছে। আপনারা ভালো করে তদন্ত করে দেখেন আমি সেখানে ছিলাম কি না, আমার নেতৃত্বে হামলা হয়েছে কি না। আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’
আরও পড়ুন:
স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, ‘দুই পক্ষই বিএনপি সমর্থক। ভিটবিলা পশ্চিমপাড়া বাজার এলাকা ও পুর্বপাড়া এলাকার দুই পক্ষের ছেলেদের মধ্যে গতরাতে ঝামেলা হয় শুনেছি। সেই ঘটনার পর পূর্বপাড়ার লোকদের (রাজা গ্রুপের) পশ্চিমপাড়া বাজারে যেতে দেবে না বলে ঘোষণা দেয় পশ্চিমপাড়া এলাকার (ইসলাম গ্রুপের) লোকজন।’
তিনি বলেন, ‘আজ সকালে লাঠি সোটা নিয়ে পাহারা বসায় তারা এবং বাজারে যাওয়া পুর্বপাড়ার লোকদেরকে ফিরিয়ে দেয় পশ্চিমপাড়া লোকজন। পরে পূর্বপাড়ার লোকজন একজোট হয়ে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসে পূর্বপাড়ার লোকদের ওপর হামলা চালায়।’
সুজানগর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাদিক আহমেদ বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। কী বিষয় নিয়ে হামলার ঘটনা সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। পরে বিস্তারিত জানানো যাবে।’





