আজ (বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল) বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আলোচিত এই মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।
২০১৭ সালের মে মাসে তৎকালীন তদন্ত সংস্থা সিআইডি তনুর পোশাক থেকে নেয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা জানিয়েছিল। সেসময় ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি হলেও সন্দেহভাজনদের সঙ্গে নমুনা ম্যাচিং (মেলানো) করা হয়নি। এবারই প্রথম আদালতের অনুমতি নিয়ে কারও নমুনা ম্যাচিংয়ের জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
গেল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে হাফিজুরকে আটক করেন পিবিআইয়ের সদস্যরা।
আরও পড়ুন:
এরপর তাকে তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হয়। কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এক নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মো. মুমিনুল হকের আদালত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
বর্তমানে ৫২ বছর বয়সী হাফিজুর রহমান ২০২৩ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে গেছেন। তনু হত্যার সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।
মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘হাফিজুর রহমানকে বুধবার কুমিল্লার আদালতে হাজির করার আগেই ঢাকায় সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে তার ডিএনএন নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ডিএনএ ম্যাচ করে দেখার কাজ এরই মধ্যে শুরু করেছে সিআইডি। তবে এটির ফল পেতে কিছুটা সময় লাগবে।’
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী হাফিজুরকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন:
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর নিজ বাসায় ফেরেননি তনু। পরে বহু খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে জঙ্গলের মধ্যে তার মরদেহ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। ডিবি ও সিআইডি দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি।
তবে ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি তনুর পোশাক থেকে নেয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল। সবশেষ পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইর ঢাকা সদরদপ্তরে হস্তান্তর করে সিআইডি। গত প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদরদপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। সবশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পান পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।





