ফরিদপুরে নিখোঁজের সাত দিন পর শিশুর গলিত মরদেহ উদ্ধার

ঘটনাস্থলে পুলিশ ও স্থানীয়রা
ঘটনাস্থলে পুলিশ ও স্থানীয়রা | ছবি: এখন টিভি
0

ফরিদপুরে ৭ দিন নিখোঁজ থাকার পর সাত বছর বয়সী শিশু কবিতা আক্তারের গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ (বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর সদরের গেরদা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের অধিনে বাখুন্ডা রেলস্টেশন সংলগ্ন কলা বাগান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

কবিতা বাখুন্ডা আদর্শ গ্রামের বাসিন্দা বাকা বিশ্বাসের মেয়ে। পাঁচ বোনের মধ্যে কবিতা সবার ছোট। শিশুটি বোকাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু ওয়ান শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলো।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মরদেহটি প্রথম দেখতে পান ওই এলাকার বাসিন্দা সোনা শেখ ও দুলাল মিয়া নামে দুই শ্রমিক। তারা বাখুন্ডা রেলস্টেশনের পাশে অবস্থিত কলা বাগানে পড়ে যাওয়া একটি কলাগাছ অপসারণ করতে গিয়ে প্রথমে দুর্গন্ধ এবং তার সূত্র ধরে মরদেহটি দেখতে পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যকে জানায়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মৃতদেহের পরনে কোন পোশাক ছিল না। ওই শিশুটির সালোয়ার দিয়ে মুখ বাধা ছিল। মৃতদেহটি উপুর করা অবস্থায় পড়ে ছিল।

গেরদা ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. জাকারিয়া খান বলেন, সাড়ে নয়টার দিকে শ্রমিক কাজ করতে যায়। একটি কলাগাছ পড়ে ছিল। সেটি অপসারণ করতে গিয়ে গন্ধ পান। পরে লাশটি দেখতে পেয়ে তাকে জানায়। পরে তিনি পুলিশকে খবর দেন। এরপর নিখোঁজ শিশুর মা ও বাবা ঘটনাস্থলে এসে শিশুটিকে শনাক্ত করেন।

আরও পড়ুন:

এ মরদেহটি উদ্ধার করেন ফরিদপুর কোতয়ালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পীযূষ কান্তি হালদার। তিনি বলেন, ‘মৃতদেহটি পচে বিকৃত হয়ে গিয়েছিলো। তা দেখে ধারণা করা যায় যেদিন শিশুটি নিখোঁজ হয়, ওই দিনই তাকে হত্যা করা হয়েছে।’

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে তাকে গলিত ও বিকৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। শিশুটির পোশাক দেখে তার বাবা-মা তাকে শনাক্ত করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি হত্যাকাণ্ড।’

তিনি বলেন, ‘মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’

এর আগে, গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে ওই শিশুটি নিখোঁজ ছিলো। এ ঘটনায় শিশুটির মা তাহমিনা বেগম শনিবার (২৫ এপ্রিল) ফরিদপুর কোতয়ালী তানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এসএইচ