গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকার গাজীপুর অভিযান পরিচালনা করে আসামি মো. সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেয়া তথ্য মতে হত্যার ঘটনায় জড়িত অপর আসামি মো. মামুন হাওলাদারকে পটুয়াখালী সদর থেকে এবং চোরাই ব্যাটারি ক্রেতা তিন নম্বর আসামি মো. শুক্কুর আকনকে কলাপাড়ার মহিপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জেলা পুলিশ নিশ্চিত করেন।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি মাঝে মধ্যে তার বাবার ভাড়ায় চালিত সিএনজি চালাইতো এবং দুই নম্বর আসামি মো. মামুন হাওলাদার একজন অটোচালক। ভিকটিম মো. জাকারিয়া তার পূর্ব পরিচিতি। ভিকটিম মো. জাকারিয়া ও আসামি মো. সাইফুল ইসলাম উভয়ে মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলো।
ঘটনার কিছুদিন পূর্বে ভিকটিম জাকারিয়া আসামি সাইফুলকে ইয়াবা দেয়ার কথা বলে আসামি মো. সাইফুল ইসলামের কাছ থেকে তিন লাখ ৭০ হাজার টাকা নেয়। পরবর্তীতে ভিকটিম জাকারিয়া বিভিন্ন সমস্যার কথা বলে আসামি সাইফুল ইসলামকে ইয়াবা দিতে না পারায় এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
আরও পড়ুন:
এক পর্যায় আসামি মো. সাইফুল ইসলাম, মামুন হাওলাদারকে নিয়ে ভিকটিম জাকারিয়া শরীফকে হত্যা করে তার অটোর ব্যাটারি চুরি করার পরিকল্পনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় এক নম্বর আসামি মো. সাইফুল ইসলাম ভিকটিম মো. জাকারিয়াকে কল দিয়ে চৌরাস্তা আসতে বলে। পরে তাকে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করে।
এ ঘটনায় নিহতের পিতা মো. রুহুল আমিন শরীফের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পটুয়াখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।
এ ঘটনায় পটুয়াখালী থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার একাধিক টিম ঘটনাস্থল ও পটুয়খালী শহরের বিভিন্ন এলাকার শতাধিক সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ, বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত, গোপন তথ্য সংগ্রহ পূর্বক তা পর্যালোচনা করে হত্যার ঘটনায় আসামি মো. সাইফুল ইসলাম ও মো. মামুন হাওলাদারের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার করে।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে এবং এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা সহায়তাকারী জড়িত আছে কি না তা নিরূপণে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করাসহ যে বা যারাই এই অপরাধে জড়িত থাকুক না কেন, তাদেরকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারপূর্বক আইনের আওতায় আনার জন্য জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেন জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম।





