ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ মোড় নিয়েছে ওয়াশিংটন-তেহরান উত্তেজনায়। তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য বলছে, সৌদি আরব, কাতার ও ওমান অনুরোধে ইরানকে একটি সুযোগ দিতে রাজি হয়েছেন ট্রাম্প। আটক বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া বন্ধ হয়েছে জানিয়ে ট্রাম্প কিছুটা নমনীয়তার ইঙ্গিত দেয়ার পর যা স্পষ্ট হয়। বাস্তবতা হলো ইরানের ওপর থেকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি সরাননি ট্রাম্প। মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেননি।
এরইমধ্যে ইরান ইস্যুতে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করতে ইসরাইল সফরের পরিকল্পনা করছেন রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। হোয়াইট হাউজও জানিয়েছে, তেহরানের ব্যাপারে ট্রাম্পের টেবিলে সব বিকল্পই প্রস্তুত।
হোয়াইট হাউজ প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট আজ জানতে পেরেছেন ইরানে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা হয়েছে। এ অবস্থায়ও প্রেসিডেন্ট ও তার প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। সব বিকল্প টেবিলে প্রস্তুত রয়েছে।’
এমন পরিস্থিতিতে গতকাল বৃহস্পতিবার জরুরি বৈঠক করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে আলোচনার টেবিলেও ছড়িয়েছে উত্তাপ। বিক্ষোভ দমনের নামে হত্যাযজ্ঞ চালালে ইরানের বর্তমান প্রশাসনকে মারাত্মক পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে জাতিসংঘের বৈঠকেও হুঁশিয়ার করেছে ওয়াশিংটন।
জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাহসী জনগণের পাশে আছে। ইরানের বর্তমান শাসনতন্ত্র তাদের জনগণের অর্থনৈতিক দুর্দশা এবং স্বাধীনতা দমনের জন্য একমাত্র দায়ী। তাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। এরজন্য সব বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত।’
আরও পড়ুন:
আন্দোলন চলাকালে বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইরান। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র যদি এসব অজুহাতে কোনও আগ্রাসী পদক্ষেপ নেয় তাহলে তার বিরুদ্ধে জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদের অধীনে কঠোর জবাব দেয়ার জন্য প্রস্তুত বলে সতর্ক করে দিয়েছে তেহরানও।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের ডেপুটি রাষ্ট্রদূত গোলামহোসেন দারজি বলেন, ‘ইরান উত্তেজনা বৃদ্ধি বা সংঘর্ষ চায় না। তবে, সনদের ৫১ অনুচ্ছেদের অধীনে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আইনসঙ্গত প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। এটি কোনও হুমকি নয়; এটি আইনি বাস্তবতা। সমস্ত পরিণতির দায় কেবল তাদের উপর বর্তাবে যারা এই ধরনের বেআইনি কাজ শুরু করে।’
ইরানের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে অন্যদেশের বলপ্রয়োগ বা হুমকির বিরোধিতা করেছে করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনা প্রতিনিধি। ওয়াশিংটনের দেয়া সামরিক পদক্ষেপের হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়াও।
জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া বলেন, ‘সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো ওয়াশিংটনের সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুমকি। যা আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদের চরম লঙ্ঘন। ন্যায্যতা প্রমাণে যে যুক্তিই ব্যবহার করা হোক না কেন, আমরা এই ধরনের পদক্ষেপের নিন্দা জানাই।’
এদিকে ইরানের অভ্যন্তরে সরকারবিরোধ আন্দোলন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এলেও খামেনিতন্ত্রের উৎখাত সমর্থনে বিভিন্ন দেশে এখনও চলছে বিক্ষোভ। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভিকে ইরানের ভবিষ্যত কাণ্ডারি হিসেবে সমর্থন দিচ্ছেন অনেক প্রবাসী ইরানি। যদিও ইরানে রেজা রেজা পাহলভির সমর্থন ঘিরে রয়েছে বিতর্ক। আর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি’র তথ্য বলছে বিক্ষোভে ইরানে প্রাণহানি বেড়ে আড়াই হাজার ছাড়িয়েছে।





