ট্রাম্পবিরোধী ‘নো কিংস’ সমাবেশ; যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এবার সবচেয়ে বড় কর্মসূচির ঘোষণা

শিকাগোর গ্রান্ট পার্কে ‘নো কিংস ডে’ বিক্ষোভে জড়ো হন বিক্ষোভকারীরা
শিকাগোর গ্রান্ট পার্কে ‘নো কিংস ডে’ বিক্ষোভে জড়ো হন বিক্ষোভকারীরা | ছবি: সংগৃহীত
0

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে ‘নো কিংস’ আন্দোলনের ব্যানারে আজ (শনিবার, ২৮ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হাজারো র‍্যালি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি হওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকদের আশা করছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক দিনে সবচেয়ে বড় অহিংস প্রতিবাদ কর্মসূচি হতে পারে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আয়োজকদের জানান, ৫০টি অঙ্গরাজ্যে মোট ৩ হাজার ২০০টির বেশি আলাদা আলাদা কর্মসূচির পরিকল্পনা আছে । ‘নো কিংস’–এর আগের দুটি কর্মসূচিতে কয়েক মিলিয়ন মানুষ অংশ নিয়েছিল।

আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী অক্টোবরে ‘নো কিংস’ সমাবেশে ৭০ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। জুনেও কয়েক মিলিয়ন মানুষ অংশ নিয়েছিলেন বলে তারা দাবি করে। 

প্রথম দুই দফার বিক্ষোভ ডেমোক্র্যাটদের ২০২৪ সালের নির্বাচনি পরাজয়ের পর, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সমালোচকদের অসন্তোষ প্রকাশের একটি সুযোগ করে দিয়েছিল। তবে তৃতীয় দফার বিক্ষোভ শুরুর মুখে প্রশ্ন উঠেছে—আরেকটি বড় সংখ্যা দেখাতে পারলেই কি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির গতিপথে প্রভাব পড়বে? এই শক্তি কি আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ে রূপ নিতে পারবে? নাকি বিক্ষোভ কেবল ক্ষণিকের ক্ষোভপ্রকাশ হয়েই থেমে যাবে?

আরও পড়ুন:

‘নো কিংস’ নামটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাকালীন গণতান্ত্রিক ও স্বৈরতন্ত্রবিরোধী নীতির প্রতি ইঙ্গিত—যা বিক্ষোভকারীদের মতে, ট্রাম্প উপেক্ষা করেছেন।

আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘নো কিংস’ কর্মসূচির কোনো একক, নির্দিষ্ট দাবি ইচ্ছাকৃতভাবেই নেই। এটি ট্রাম্পবিরোধী আন্দোলনের বিচিত্র ও বিস্তৃত চরিত্রকে তুলে ধরে। প্রচারপত্র ও ইমেইলে নানা ইস্যুর কথা বলা হয়েছে—অভিবাসন টহল, নির্বাচনে হস্তক্ষেপ, হোয়াইট হাউসের বলরুম, ইউক্রেন এবং সাশ্রয়ী আবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়।

এছাড়া ১৯৬০-এর দশকে যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনে টম হেইডেন বা ১৯৮০-এর দশকে খ্রিষ্টান ইভানজেলিকালদের ক্ষেত্রে জেরি ফ্যালওয়েলের মতো কোনো একক মুখ বা উচ্চপ্রোফাইল নেতৃত্বও এখানে গড়ে ওঠেনি। বর্তমান সময়ের বামপন্থী নেতারা—বার্নি স্যান্ডার্স বা আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কোর্তেজ—বিভিন্ন প্রগতিশীল ইস্যুর পক্ষে কথা বললেও, শুধু ট্রাম্পবিরোধী আন্দোলনের ‘মুখ’ হিসেবে নয়।

আয়োজকেরা বলছেন, লক্ষ্য হলো প্রশাসনের যত বেশি সম্ভব বিরোধীকে, বিশেষ করে এই প্রশাসনের প্রতি অসন্তুষ্টদের, একত্র করা।

এএম