ইরানকে বিমান প্রতিরক্ষা দিলে চীনকে ‘বড় সমস্যার’ মুখে পড়তে হবে: ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত
1

ইরানকে অস্ত্র পাঠালে চীনকে ‘বড় সমস্যার’ মুখে পড়তে হবে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা করা হয়, বেইজিং গোপনে তৃতীয় দেশগুলোর মাধ্যমে ইরানে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাতে পারে। তবে চীন এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। রয়টার্স বরাত দিয়ে ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গতকাল (শনিবার, ১১ এপ্রিল) হোয়াইট হাউস থেকে মায়ামির উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘চীন যদি তা করে, তাহলে চীনের বড় সমস্যা হতে পারে।’ তবে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

এদিকে সিএনএনের জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে জানা গেছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরান নতুন চীনা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পেতে পারে। সিএনএন আরও বলে, বেইজিং তৃতীয় দেশ ব্যবহার করে এসব সরবরাহের উৎস আড়াল করতে পারে—এমন লক্ষণও রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি থাকলেও উভয় পক্ষই এখনো ওই অঞ্চলে ও এর আশপাশে ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ও বাহিনী এখনো ইরানের কাছে মোতায়েন আছে, আর তেহরান সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দ্রুত পুনর্গঠন করতে চাইছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

চীন অভিযোগটি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাস এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘বেইজিং সংঘাতে জড়িত কোনো পক্ষকে কখনো অস্ত্র দেয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ভিত্তিহীন অভিযোগ ও উত্তেজনামূলক প্রচার থেকে বিরত থাকতে বলেছে।’

ইরানকে চীনের সামরিক সহায়তা দিলে ওয়াশিংটন এটিকে বড় ধরনের উত্তেজনা হিসেবে দেখবে এবং আগামী মাসে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনার জন্য ট্রাম্পের চীন সফরেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

আরও পড়ুন:

পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা ইরানের জন্য চীন ও রাশিয়া এখনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও সামরিক অংশীদার; তারা তেহরানকে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, সন্দেহভাজন অস্ত্রচালানে কাঁধে বহনযোগ্য বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, অর্থাৎ ম্যানপ্যাডস, থাকতে পারে। ইরান এগুলো ব্যবহার করে নিচু দিয়ে উড়তে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিমান প্রতিহত করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা মনে করছেন, চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার সংশ্লিষ্ট কিছু সংঘর্ষেও এ ধরনের ব্যবস্থা ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে।

ইরান বিষয়টি প্রকাশ্যে বিস্তারিত জানায়নি। তবে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর ওপর সফল হামলার জন্য নতুন ও উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কৃতিত্ব দিয়েছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরানের সঙ্গে খুব গভীর আলোচনা চালাচ্ছে। তবে চূড়ান্ত চুক্তি হবে কি না, তা নিয়ে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেননি।’ তিনি বলেন, ‘হয়তো তারা চুক্তি করবে, হয়তো করবে না—যাই ঘটুক, আমরা জিতবো।’ ইরান পানিতে কয়েকটি মাইন বসিয়ে থাকতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের মাইন অপসারণকারী জাহাজগুলো সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।’

এএম