গতকাল (বুধবার, ২২ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ আমেরিকান রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রেডিও সঞ্চালক মাইকেল স্যাভেজের একটি বর্ণবাদী পডকাস্ট শেয়ার করার মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বিতর্কিত অবস্থান তুলে ধরেন। সিএনবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প মিথ্যা দাবি করার এক দিন পর এই পোস্টটি দেন। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বিশ্বের আর কোনো দেশে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের আইন নেই।’
অভিবাসীদের ‘ল্যাপটপধারী গ্যাংস্টার’ আখ্যা দেয়া
ডোনাল্ড ট্রাম্পের শেয়ার করা ওই পডকাস্টে মাইকেল স্যাভেজ ভারত, চীনসহ অন্যান্য দেশকে ‘নরককুণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, এশীয় দেশগুলো থেকে মানুষ গর্ভাবস্থার শেষ সময়ে স্রেফ ‘সন্তান জন্ম দেয়ার জন্য’ বিমানে করে যুক্তরাষ্ট্রে আসে, কারণ এখানকার আইন অনুযায়ী ওই শিশুটি জন্মমাত্রই মার্কিন নাগরিক হয়ে যায়। পরে তারা তাদের পুরো পরিবারকেও নিয়ে আসে।
স্যাভেজ ভারতীয় ও চীনা অভিবাসীদের ‘ল্যাপটপধারী গ্যাংস্টার’ বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘তারা আমাদের পতাকা পদদলিত করেছে। মাফিয়া পরিবারগুলো এই জাতির যত ক্ষতি করেছে, তার চেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে এই অভিবাসীরা।’ তিনি আরও দাবি করেন, ক্যালিফোর্নিয়ার টেক কোম্পানিগুলোতে এখন শ্বেতাঙ্গদের কোনো কাজের সুযোগ নেই, সব ভারতীয়রা দখল করে নিয়েছে।
সংবিধান নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান
বাস্তবতা হলো—কানাডা ও মেক্সিকোসহ বিশ্বের প্রায় তিন ডজন দেশে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের আইন কার্যকর রয়েছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই এই আইন বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পরই তিনি একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দেয়া বন্ধের নির্দেশ দেন।
বিষয়টি বর্তমানে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। এই মাসের শুরুর দিকে সুপ্রিম কোর্টে এ সংক্রান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপিত হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘আদালত যদি জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের পক্ষে রায় দেয়, তবে তা আমেরিকার মর্যাদাকে ভূলুণ্ঠিত করবে।





