শেষ দফায় তৃণমূলের ঘাঁটিতে ভোট লড়াই; ৭ জেলায় মুসলিম ভোটে বাড়তি গুরুত্ব

নির্বাচনের সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়া হচ্ছে
নির্বাচনের সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়া হচ্ছে | ছবি: সংগৃহীত
0

শেষ দফার ৭ জেলার ১৪২টি আসনের মধ্যে বেশিরভাগই শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ঘাঁটি। এখানে আসন গাড়তে গেল কয়েক বছর ধরেই নানা চেষ্টা চালিয়েছে বিজেপি। দ্বিতীয় দফার ভোটে সাতটি জেলাতেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে মুসলিম ভোট এবং এসআইআর। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে বিগত ১৭ বছর ধরে এসব আসনে অনেকটা একচেটিয়া আধিপত্য ধরে রেখেছে তৃণমূল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি বিজেপি।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ২৯৪ আসনের গেল ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোট হয়। দ্বিতীয় দফায় ভোট ১৪২টি আসনে। ভোটযুদ্ধে মাঠে থাকা ১ হাজার ৪৪৮ জন প্রার্থীকে বেঁছে নেবেন ৩ কোটি ২১ লাখের বেশি ভোটার। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আবারও ক্ষমতায় ফিরবে তৃণমূল, নাকি বিজেপির হাত ধরে আসবে পরিবর্তন তা জানা যাবে আগামী ৪ মে।

দ্বিতীয় দফার ৭ জেলার আসনগুলোর বেশিরভাগই তৃণমূলের ঘাঁটি। নদিয়া ও উত্তর চব্বিশ পরগনার মতুয়াগড় বাদ দিলে সেই অর্থে বিজেপির শক্তি নেই। ২০২১ সালের নির্বাচনে এ সাতটি জেলার ৪টিতে একটি আসনও পায়নি বিজেপি। ১৪২টি আসনের মধ্যে বিজেপির দখলে ছিলো ১৮টি আর তৃণমূলের ঝুলিতে গিয়েছিল ১২৩টি আসন। আর হুগলিতে প্রথমবারের মতো চারটি আসন পেয়েছিল গেরুয়া শিবির।

আরও পড়ুন:

সাতটি জেলাতেই সংখ্যালঘু মুসলিম ভোটার বর ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে আসছে বহুদিন ধরে। ১৪২টি আসনের তিন ভাগের এক ভাগের বেশি আসনে সংখ্যালঘু ভোটারদের আধিপত্য। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে ১৭ বছর ধরে এ ভোটগুলোতে একচেটিয়া আধিপত্য তৃণমূলের। বাংলাভাষী সংখ্যালঘুর পাশাপাশি অন্য ভাষার মুসলিমের সংখ্যাও কম নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ধর্ম নয় বরং রুটি-রুজি ও কর্মসংস্থানই ভোটারদের আকর্ষণে জায়গা। যদিও এবার এই সংখ্যালঘু ভোটারদের ওপর ভর করে আছে তৃণমূল।

এবারের ভোটে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু এসআইআর বা সংশোধিত ভোটার তালিকা। দ্বিতীয় দফায় ৭টি জেলায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ৫০ লাখের বেশি নাম। এসআইআর ভোটের সমীকরণে অন্যতম ভূমিকা রাখবে বলে মতে বিশ্লেষকদের। মতুয়া সম্প্রদায় অধ্যুষিত এলাকায় বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রভাব রয়েছে। নাগরিকত্বসহ একাধিক বিষয়ে প্রতিশ্রুতি পূরণ না করা নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়েছে তৃণমূল। যদিও গেল তিনটি বড় ভোটেই বিজেপির প্রভাব ছিলো।

এই ৭টি জেলায় ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে জয়ের ধারা মোটামুটি ধরে রাখতে পেরেছিল তৃণমূল। যদিও আরজিকর কাণ্ডে শহরাঞ্চলে তৃণমূলের জনসমর্থন কিছুটা কমেছিল। সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে বিজেপি উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে প্রার্থী দেয় আরজিকর হাসপাতাল কাণ্ডে নিহত চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথকে।

এফএস