ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প: সরকারি হিসেবের তুলনায় বেশি ক্ষতির আশঙ্কা

ক্ষতিগ্রস্ত ৫৮ হাজারের বেশি ভবন

ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের মাঝে ক্ষতিগ্রস্ত দেয়ালে আঁকা ভেনেজুয়েলার জাতীয় পতাকা
ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের মাঝে ক্ষতিগ্রস্ত দেয়ালে আঁকা ভেনেজুয়েলার জাতীয় পতাকা | ছবি: সংগৃহীত
0

ভেনেজুয়েলায় গত সপ্তাহে আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে ধ্বংসলীলার যে চিত্র সরকারিভাবে দেয়া হয়েছে, প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি তার চেয়ে বহুগুণ বেশি হতে পারে। নাসার স্যাটেলাইট ডেটা বা উপগ্রহ তথ্যের প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশটিতে প্রায় ৫৮ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে থাকতে পারে। এটি সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গত বুধবারের ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৯৪৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। আহত হয়েছেন ১০ হাজার ৫৭১ জনের বেশি এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও কয়েক হাজার মানুষ। গত সোমবার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট জর্জ রদ্রিগেজ জানিয়েছিলেন যে, ৮৫৫টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যার মধ্যে ১৮৯টি সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। কিন্তু ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার ‘সেন্টিনেল-১’ স্যাটেলাইটের রাডার চিত্র বিশ্লেষণ করে ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকরা জানিয়েছেন, এই অঞ্চলে আনুমানিক ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন সম্ভবত ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

উদ্ধার তৎপরতা চললেও সময় পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধ্বংসস্তূপের নিচে কাউকে জীবিত পাওয়ার আশা ম্লান হয়ে আসছে। এরই মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) দেশটিতে মহামারি ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে। সংস্থাটির মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডমেয়ার জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ভেনেজুয়েলার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এখন চরম চাপের মুখে। টিকাদানের হার কম থাকায় হাম, ডিপথেরিয়া, ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গুর মতো রোগ ছড়িয়ে পড়ার ‘অধিক ঝুঁকি’ তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা বন্দরে প্রসূতি সেবা কর্মীরা নিখোঁজ থাকায় গর্ভবতী নারীদের চিকিৎসায় বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে।

লা গুয়াইরা এলাকা এখন সামরিক নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে এবং সেখানে প্রবেশের জন্য বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হচ্ছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী এই শহরের বন্দরটি সংস্কার করে পুনরায় চালু করেছে। সেখানে অন্তত একটি গুদামঘরকে অস্থায়ী মর্গ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে বডি ব্যাগে রাখা হয়েছে শত শত অজ্ঞাত মরদেহ।

উদ্ধার কাজে ধীরগতি ও পূর্বপ্রস্তুতির অভাব নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ড্যানিয়েলা মাঙ্গিয়াফিকো নামের এক ভুক্তভোগী জানান, তার ৮০ বছর বয়সী দাদি হোসেফা বায়েজ এবং তার পোষা প্রাণীগুলো গত বুধবার থেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘সহায়তা পৌঁছাতে অনেক দেরি হয়েছে। মাটির নিচে আটকা পড়া মানুষদের আমরা আর কতক্ষণ অপেক্ষা করতে বলতে পারি?’ স্বেচ্ছাসেবক উদ্ধারকারী নিকোলাস সেরাতো জানিয়েছেন, লা গুয়াইরার বিশাল এলাকাজুড়ে খুব কম ভবনই অক্ষত আছে। এটি একটি গভীর মানবিক বিপর্যয়।

এএম