এক মাসে ৩ ট্রিলিয়ন ডলার মূলধন হারিয়েছে বিশ্বের সেমিকন্ডাক্টর খাত

সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বৈশ্বিক হাব হয়ে উঠছে ভারত
সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বৈশ্বিক হাব হয়ে উঠছে ভারত |
0

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিপুল বিনিয়োগ ও বাজারের অতিমূল্যায়ন নিয়ে উদ্বেগের জেরে গত জুলাই মাসে বৈশ্বিক প্রযুক্তি ও সেমিকন্ডাক্টর শেয়ারবাজার বড় ধরনের উত্থান পতনের সম্মুখীন হয়েছে। এ সময়ে বাজার থেকে কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারের মূলধন উধাও হয়ে গেলেও পরে ক্লাউড কম্পিউটিং কোম্পানিগুলোর ভালো মুনাফার খবরে চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ঘুরে দাঁড়ায়। আনাদোলুর প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের শুরু থেকে সর্বনিম্ন পতনের সময় পর্যন্ত বিশ্বের ৮০টি বৃহত্তম সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানির সূচক থেকে ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি মূলধন হারায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান চিপ কোম্পানিগুলোর সূচক আইশেয়ার্স সেমিকন্ডাক্টর ইটিএফ জুলাই মাসে ২২ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে, যা ২০০২ সালের ডিসেম্বরের পর সর্ববৃহৎ মাসিক পতন। তবে বছরের শুরু থেকে হিসাব করলে এ তহবিল এখনো ৬৭ দশমিক ৭ শতাংশ ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, দৈনিক ওঠানামাও ছিল নাটকীয়। ফিলাডেলফিয়া সেমিকন্ডাক্টর সূচক ৩০ ও ৩১ জুলাই দুই দিনে প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে মার্কিন মেমোরি-চিপ প্রস্তুতকারক মাইক্রোন টেকনোলজির শেয়ার ৩০ জুলাই ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে পরের দিনই ৫ দশমিক ৯ শতাংশ কমে যায়।

দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে এই উত্থান-পতন আরও তীব্র ছিল। ২৮ জুলাই কসপি সূচক ১০ দশমিক ৮ শতাংশ কমার পর, স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের শেয়ার ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ এবং এসকে হাইনিক্সের শেয়ার ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ কমে যায়। তবে মাত্র তিন দিন পরই কোরীয় সূচকটি প্রায় ১৮ শতাংশ বেড়েছে।

এদিকে চিপ নির্মাতাদের আর্থিক প্রতিবেদনগুলো বলছে ভিন্ন গল্প। এনভিডিয়ার প্রথম প্রান্তিকের আয় আগের বছরের তুলনায় ৮৫ শতাংশ বেড়ে ৮১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। মাইক্রোনের আয় বেড়েছে ৩৪৬ শতাংশ। এছাড়া স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের দ্বিতীয় প্রান্তিকের রেকর্ড আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২৪ বিলিয়ন ডলারে। এসকে হাইনিক্সের আয় বেড়েছে ২৫৭ শতাংশ, যেখানে পরিচালন মুনাফা বেড়েছে ৫৫৭ শতাংশ। তাইওয়ানের চিপ প্রস্তুতকারক টিএসএমসি জুন মাসে বছরের হিসাবে ৬৭ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে।

এআই খাতে বিনিয়োগ এখন আকাশছোঁয়া। মাইক্রোসফটের অ্যাজিউর ক্লাউড সেবা থেকে বার্ষিক আয় প্রথমবারের মতো ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। অ্যামাজনের এডব্লিউএস ক্লাউড ইউনিটের দ্বিতীয় প্রান্তিকের বিক্রি ৩৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে, যা গত ১৮ প্রান্তিকের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি। মূলত এআই খাতে বিনিয়োগের কারণে অ্যামাজনের সম্পত্তি ও সরঞ্জাম কেনাকাটা বেড়েছে ৬৬ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার।

মেটার দ্বিতীয় প্রান্তিকের মূলধনি ব্যয় ছিল ৩১ দশমিক ০৮ বিলিয়ন ডলার, যা এক বছর আগে ছিল ১৭ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলার। কোম্পানিটি ২০২৬ সালে ১৩০ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করার পূর্বাভাস দিয়েছে। এদিকে এআই সার্ভারের চাহিদা বাড়তে থাকায় মেমরি চিপের দাম বাড়ছে। ট্রেন্ডফোর্সের হিসাব অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ডিআরএএম চিপের চুক্তিভিত্তিক দাম ৫৮ থেকে ৬৩ শতাংশ এবং ন্যান্ড ফ্ল্যাশের দাম ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ বেড়েছে।

এএম