রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরের তীরে গেলেনঝিকের শান্ত সৈকত আর মনোরম প্রকৃতির টানে প্রতিবছর সেখানে হাজার হাজার পর্যটক ভিড় জমান। জনপ্রিয় এই পর্যটনকেন্দ্রে বেশকিছু রিসোর্টও রয়েছে। যার পাশেই রুশ প্রেসিডেন্টের বহুল আলোচিত 'পুতিনস প্যালেস' অবস্থিত।
প্রায় ১৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় নির্মিত এই কমপ্লেক্সের সঙ্গে পুতিনের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে রয়েছে নানান বিতর্ক। যার মধ্যে রয়েছে বিশাল অংকের দুর্নীতি ও গোপন অর্থায়ন, মালিকানা নিয়ে ধোঁয়াশা এবং প্রাসাদটির অতিবিলাসী নির্মাণশৈলী। ২০২১ সালে রাশিয়ার বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনি ও তার দুর্নীতিবিরোধী ফাউন্ডেশন একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রকাশ করার পর প্রাসাদটি বিশ্বজুড়ে রহস্যের জন্ম দেয়। যদিও পুতিন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
এবার, সেই গেলেনঝিকের একটি রিসোর্টে সাধারণ মানুষের ওপর ইউক্রেনের ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনায় নানা মহলে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
তবে প্রেসিডেন্ট পুতিনের প্রাসাদ সুরক্ষিত আছে বলেই তথ্য দিচ্ছে বিভিন্ন সূত্র। বিস্ফোরণের আগে ঘটনাস্থলে মেশিনগানের গুলির শব্দ পাওয়ার গুঞ্জন উঠেছে, সম্ভবত হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল পুতিন প্যালেস। তবে এ বিষয়ে রুশ কর্তৃপক্ষ কোন মন্তব্য করেনি। তবে মস্কোর অভিযোগ, সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করেই হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আচমকা একটি ড্রোন আছড়ে পড়ার পর বিস্ফোরণ হয়। তখন সৈকতে অবস্থান করছিল অনেক পর্যটক-দর্শনার্থী। আতঙ্কে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে শুরু করেন পর্যটকরা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে বিস্ফোরণের আগে টানা গুলির শব্দ শোনা যায়। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, রুশ বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী ড্রোনটিকে ভূপাতিত করার চেষ্টা করছিল। হামলার পরেই উদ্ধারকাজ শুরু করে সামরিক বাহিনী।
এছাড়াও, গেল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দু'দেশের পাল্টাপাল্টি হামলায় উভয় দেশের প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ জনে। এছাড়া কৃষ্ণসাগরের নোভোরোসিস্কের কাছে ড্রোন হামলায় একটি রুশ জাহাজের তিন নাবিক আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।





