যতদূর চোখ যায় কেবলই প্রকৃতির ধ্বংসলীলা আর মানবিক বিপর্যয়ের করুণ কাহিনী। মুহূর্তের হড়কা বানে ভেসে গেছে গ্রামের পর গ্রাম। দেখে মনে হতে পারে এ যেন গাজা কিংবা সিরিয়ার প্রতিচ্ছবি।
তিলে তিলে গড়ে তোলা বহুতল ভবন তাসের ঘরের মতো দুমড়ে- মুচড়ে মিশে গেছে কাদামাটির সঙ্গে। নেই কোনো প্রাণের অস্তিত্ব। দুদিন আগেও ভবনগুলোতে ভবিষ্যতের গল্প বুনছিল হাজারও প্রাণ। সেগুলোই এখন দেবে গেছে কাদামাটির স্তরে। কাদার প্রলেপে আবৃত ভেঙ্গে পড়া ভবনের ছাদও।
আরও পড়ুন:
শুধু আবাসিক ভবন নয়, নজিরবিহীন পাহাড়ি ঢল আর ভূমিধসে বিধ্বস্ত ব্যাংক, বীমাসহ অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান। কাদার সঙ্গে মিশে আছে যানবাহন। কাদামাটির তোড়ে ভেসে গেছে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। সবখানেই যেন কাদার রাজত্ব।
এদিকে, দুর্যোগের দুদিন পরও কাদাপানি প্রবাহিত হচ্ছে তিব্বত সীমান্তবর্তী নদীগুলোতে। কাদার আস্তরণে ঢাকা লোকালয়ও। দেখে বোঝার উপায় নেই কাদার ভেতরে চাপা পড়ে আছে আরও কত শত প্রাণ।
এরপরও এই কাদা পেরিয়েই ভারী ক্রেনসহ অন্যান্য আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে একের পর এক হতাহতকে বের করে আনছেন উদ্ধারকারী দল। কেউ জীবিত উদ্ধার হলেই ছুটে যাচ্ছেন সবাই।
প্রিয়জনের খোঁজ মিললেই সবকিছু হারানোরা যেন ফিরে পাচ্ছেন নতুন করে বাঁচার শক্তি। আর এখনও খোঁজ না পাওয়াদের চোখে মুখে শুধু অপেক্ষার প্রহর। সবমিলিয়ে পৃথিবীর বুকে মর্মস্পর্শী ট্রাজেডির এক জীবন্ত আখ্যান এখন নেপাল।




