গত শুক্রবার সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলের প্লেগ গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২৮ বছর বয়সী টেকনিশিয়ান দারিয়া শিপিলোভা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় শুরুতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ দেখা দেয় এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। ঘটনার পর প্রায় ২০০ জনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছিল।
বুধবার এক বিবৃতিতে রাশিয়ার স্বাস্থ্য তদারকি সংস্থা জানায়, কোনো ধরনের মহামারির ঝুঁকি না থাকায় তারা সতর্কতামূলক ব্যবস্থাগুলো প্রত্যাহার করে নিচ্ছে এবং সর্বশেষ তথ্য ডব্লিউএইচওকে জানানো হয়েছে। মৃত কর্মীর সংস্পর্শে আসা কারও শরীরেই প্লেগের জীবাণু পাওয়া যায়নি। প্রায় পাঁচ হাজার ল্যাব পরীক্ষায় কোনো বিপজ্জনক প্যাথোজেন না মেলায় কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিদের ৯০ শতাংশকেই ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, দারিয়া শিপিলোভা আগেই টিকা নিয়েছিলেন, ফলে যেসব বিপজ্জনক সংক্রমণ নিয়ে তিনি কাজ করতেন সেগুলোর বিরুদ্ধে তার প্রতিরোধ ক্ষমতা ছিল। তবে কী কারণে তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন, সে বিষয়ে সংস্থাটি কিছু জানায়নি। বর্তমানে সাধারণ মানুষের জন্য এই ঘটনার ঝুঁকি বেশ কম বলে মনে করছে ডব্লিউএইচও।
ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদরোস আদহানোম গেব্রেয়াসুস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘মারাত্মক নিউমোনিয়ার কারণ, যে প্যাথোজেনের কারণে স্বাস্থ্যগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল তা এবং দ্বিতীয় আরেক কর্মীর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার খবরের বিষয়ে ডব্লিউএইচও আরও তথ্য চেয়েছে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘পরস্পরবিরোধী খবরের বিভ্রান্তি দূর করতে এবং সম্ভাব্য জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি সঠিকভাবে নিরূপণের জন্য আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিধির আওতায় সময়মতো, পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তথ্য বিনিময় অত্যন্ত জরুরি।’ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের জন্য মস্কোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে ক্রেমলিন জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠিত নিয়ম মেনেই ডব্লিউএইচওকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। সাইবেরিয়ায় দ্বিতীয় এক ব্যক্তির অসুস্থ হওয়ার গুঞ্জন নিয়ে জানতে চাইলে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ‘গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চলছে এবং এ পরিস্থিতির বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের সিংহভাগই অসত্য।’ তিনি সবাইকে স্বাস্থ্য তদারকি সংস্থার দেয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দেন।
পশ্চিমা কিছু গণমাধ্যমে দ্বিতীয় আরেকজনের মৃত্যুর দাবি করা হলেও নির্ভরযোগ্য কোনো রুশ গণমাধ্যমে এমন খবরের সত্যতা পাওয়া যায়নি।





