রাশিয়ায় জ্বালানি রপ্তানির অভিযোগ; প্রমাণ পেলে আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দক্ষিণ কোরিয়ার

দেসান বন্দরের কাছে দেসান পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে তেল শোধনাগারের পাইপলাইন ও তেল সংরক্ষণ ট্যাংক
দেসান বন্দরের কাছে দেসান পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে তেল শোধনাগারের পাইপলাইন ও তেল সংরক্ষণ ট্যাংক | ছবি: আল জাজিরা
0

রাশিয়ায় অবৈধভাবে জ্বালানি রপ্তানির অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেবে দক্ষিণ কোরিয়া। আজ (বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হুঁশিয়ারি দিয়েছে। মূলত ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের এক উপদেষ্টা রাশিয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার জ্বালানি রপ্তানির অভিযোগ তোলার পর সিউলের পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়া জানানো হলো।

বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়ায় তাদের দেশে উৎপাদিত ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানি রপ্তানি হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ডিজেল ও জেট ফুয়েলের মতো কিছু পণ্য রাশিয়ায় রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের তালিকায় নেই বলেও জানিয়েছে তারা।

এর আগে বুধবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা ভ্লাদিস্লাভ ভ্লাসিউকের একটি দাবি নাকচ করে দেয়। ভ্লাসিউক দাবি করেছিলেন, জুলাই ও আগস্ট মাসে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে রাশিয়ায় ১ লাখ ৭৬ হাজার টন জ্বালানি পাঠানো হয়েছে। ইউক্রেনের শীর্ষ এই নিষেধাজ্ঞা কর্মকর্তার মতে, এমন ঘটনা রাশিয়ার প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার নিষেধাজ্ঞা নীতির পরিপন্থি।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র কাং ইউ-জুং ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সিকে বলেন, ‘ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে আমাদের সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং রাশিয়ার ওপর ধারাবাহিকভাবে নিষেধাজ্ঞা ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ বাস্তবায়ন করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ইউক্রেনকে অনুরোধ করছি, তারা যেন পর্যাপ্ত তথ্য যাচাই ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার নীতি বিকৃত করা থেকে বিরত থাকে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিশ্বাস ক্ষুণ্ণ করতে পারে এমন প্রকাশ্য মন্তব্য করা থেকেও তাদের বিরত থাকার আহ্বান জানাই।’

সম্প্রতি সিউল ও কিইভের মধ্যে সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি একতরফাভাবে তথ্য ফাঁস করেছেন বলে অভিযোগ করে দক্ষিণ কোরিয়া। সিউলের দাবি, কিইভ তাদের কাছে উত্তর কোরিয়ার দুজন যুদ্ধবন্দিকে হস্তান্তর করেছিল। এই তথ্য প্রকাশ করায় ইউক্রেনের কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চেয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। তবে কিইভ জানিয়েছে, তথ্য গোপন রাখার বিষয়ে তাদের মধ্যে কোনো চুক্তি ছিল না।

এদিকে, মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। ২০২৪ সালে দেশ দুটি একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। ইউক্রেন ও দক্ষিণ কোরিয়ার অনুমান অনুযায়ী, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধে সহায়তা করতে ১৪ থেকে ১৫ হাজার উত্তর কোরীয় সেনাকে সেখানে পাঠানো হয়েছে।

এএম