ভেনেজুয়েলায় দুর্ধর্ষ অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর উদ্বিগ্ন বিশ্ববাসী। এর রেশ না কাটতেই ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ অবস্থায় খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপটির ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে উত্তেজনা।
এবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, রাশিয়া ও চীনের দখলের আগেই গ্রিনল্যান্ড নিজের কব্জায় নিতে চান তিনি। সেজন্য প্রয়োজনে কঠোর হওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘৫০০ বছর আগে সেখানে তাদের নৌকা ছিল, তার অর্থ এ নয় যে তারা জমির মালিক। আমাদের সেখানেও প্রচুর নৌকা যাতায়াত করতো। আমরা রাশিয়া বা চীনকে গ্রিনল্যান্ড দখল করতে দেব না। এখন যদি আমরা নিজেদের মালিকানায় না নেই, তবে তারা সুযোগ লুফে নেবে। তা আমরা হতে দেবো না। তাই ভালো উপায়ে না হলে আমরা গ্রিনল্যান্ডের জন্য কঠিন পদক্ষেপ নেবো।’
স্বায়ত্তশাসিত ডেনিশ ভূখণ্ড গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিষয়ে মার্কিন হুমকি কার্যকরের পথে এগুলো ইউরোপের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে তা নিয়ে ভাবছে ইইউ। তবে গ্রিনল্যান্ড দখলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে চাইলে, সমর্থন করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইতালি।
আরও পড়ুন:
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেন, ‘আমি এখনও বিশ্বাস করি না যে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার জন্য সামরিক পদক্ষেপ নেবে। এমন পদক্ষেপ নিলে আমি স্পষ্টতই সমর্থন করব না। আমি এর মধ্যেই লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছি। আমি মনে করি সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে দখল করে যুক্তরাষ্ট্রেরও উপকারে আসবে না।’
এদিকে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ন্যাটো এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আদর্শিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার শঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক।
তিনি বলেন, ‘আমি গ্রিনল্যান্ড ইস্যু নিয়ে খুব চিন্তিত। এটি নিয়ে ন্যাটো এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আদর্শিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করছে। যা নিয়ে আমি খুব চিন্তিত।’
এর আগে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডেরিকসেন সতর্ক করেছেন, গ্রিনল্যান্ড দখল করার জন্য যদি যুক্তরাষ্ট্র কোনো হামলা চালায় তাহলে ন্যাটো সামরিক জোটের ইতি ঘটবে। কোনো অবস্থাতেই গ্রিনল্যান্ড কারও কাছে বিক্রি বা দখলের সুযোগ দেয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী।





