রাজপথ নয় সমস্যা সমাধানে সংসদকেই বেছে নিতে চাচ্ছে সরকারি ও বিরোধীদল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন

আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, জয়নুল আবেদীন ও আসিফ মোহাম্মদ শাহান
আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, জয়নুল আবেদীন ও আসিফ মোহাম্মদ শাহান | ছবি: এখন টিভি
0

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন কাল। দেড় দশকের গণতন্ত্রহীনতা ও অকার্যকর সংসদের পর একটি কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সংসদ পেতে যাচ্ছে দেশ। তবে সমস্যা সমাধানে অতীতের মত রাজপথে নয়; সংসদকেই বেছে নিতে চাচ্ছে সরকারি ও বিরোধীদল। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, সমস্যার সমাধান সংসদে নাকি রাজপথে হবে- তা নির্ভর করবে দলগুলোর রাজনৈতিক সমঝোতা ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ওপর।

একদিন বাদেই বসতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশন। এমন একটি সংসদের জন্য বিএনপি-জামায়াতসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে আসতে হয়েছে দীর্ঘ গণতান্ত্রিক লড়াই ও জুলাইয়ে রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে।

যদিও ২০০৮ পরবর্তী সময় থেকেই আওয়ামী লীগের ৩টি বিতর্কিত নির্বাচনের ফলে সংসদ অধিবেশনগুলো কার্যত অকার্যকর হয়ে যায়। তবে এবার সংসদে ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে থাকা দলগুলোই সরকার ও বিরোধী দলে থাকায় সংসদ কেমন হবে সে প্রশ্নগুলো সামনে আসছে।

অতীতে সংসদে সরকারি দলের একচেটিয়া প্রভাব থাকায় বিরোধীদলকে সংসদে যতটা না ভূমিকা রাখতে দেখা গেছে রাজপথে তারচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকতে দেখা যায়। ১৯৯১-৯৬ কিংবা ২০০১-৮ পর্যন্ত পতিত আওয়ামীলীগকে দাবি আদায়ে সংসদের চেয়ে রাজপথেই বেশি বিধ্বংসী রূপে দেখা গেছে।

এবার বিরোধী দলে থাকা জামায়াত ইসলামী বলছে পূর্বের মত দাবি আদায়ে রাজপথে নয় সংসদেই সংকট সমাধানের চেষ্টা করবে তারা। তবে আলোচিত জুলাই সনদের সমাধান যদি সংসদে না হয় তাহলে রাজপথেই সমাধানের ইঙ্গিত দিচ্ছে দলটি।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘বিএনপি চাচ্ছে না এটা বোঝাই যাচ্ছে। এজন্য প্রেশার ক্রিয়েট করবো আমরা। রাজপথে স্বাভাবিকভাবেই মিছিল মিটিং করা, জনমতকে গড়ে তোলা, সারা দেশব্যাপী জনসভা করা জনগণকে সংগঠিত করা ওগুলো তো হবেই।’

রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার স্বার্থে বিরোধীদল দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলে প্রত্যাশা বিএনপির। জুলাই সনদ বা সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে জটিলতার যে শঙ্কা করা হচ্ছে এ নিয়ে আলাপই সংসদকে প্রাণবন্ত করবে বলে মনে করছে দলটি। এবং সকল সমস্যার সমাধান সংসদে সাংবিধানিকভাবেই সমাধান হবে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘এ জটিল অবস্থাকে সহজ করার জন্যই সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের আলোচনা। যেহেতু জুলাই সনদকে আমরা এমন একটি সনদ মনে করি পার্লামেন্ট যদি গ্রহণ করে বা যে অংশ গ্রহণ করবে সংসদ সদস্যরা মিলে সেটাই হবে সংবিধান অনুসারে দিক নির্দেশনা।’

তবে এ রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন সংসদ কেমন হবে তা মূলত নির্ভর করবে দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সমঝোতা এবং সরকারি দল জুলাই সনদে উল্লেখিত যেসব সুবিধা বিরোধী দলকে দেয়ার কথা সেগুলো দিচ্ছে কিনা তার উপর। অতীতের মত এবারো বিরোধী দল রাজপথ নামবে কিনা তাও নির্ভর করবে সুবিধা দেয়ার ওপর।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক আসিফ মোহাম্মদ শাহান বলেন, ‘যেসকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান যেগুলোর কাজ হচ্ছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এগুলোর প্রধান হিসেবে যেসব ব্যক্তিবর্গকে নিয়োগ করা হবে সে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিরোধীদলের অংশগ্রহণ থাকবে কি থাকবে না। যদি আপনি বিরোধী দলকে এ সুযোগগুলো দেন তাহলে সংসদ প্রাণবন্ত হবে। আর যদি প্রত্যেক জায়গা থেকে বিরোধী দলকে বাদ দিয়ে দেন তাহলে তাদের রাস্তায় নেমে আন্দোলন করা ছাড়া আর কিছু করার থাকবে না।’

যেহেতু দীর্ঘ গণতন্ত্রহীনতার পর একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সংসদ হতে যাচ্ছে সেহেতু সরকারি ও বিরোধী দল কার্যকর ভূমিকা পালন করলে গণতন্ত্র স্থায়ী রূপ পাবে।

এএইচ