গত বুধবার (১৩ মে) স্থানীয় সময় জাতিসংঘ ওয়েবটিভিতে সম্প্রচারিত এক অনানুষ্ঠানিক ইন্টারঅ্যাকটিভ সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন। ৮০তম অধিবেশনের সভাপতি আনালেনা বেয়ারবকের আয়োজিত ওই আলোচনায় ৮১তম অধিবেশনের সম্ভাব্য সভাপতিরা নিজেদের পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকার তুলে ধরেন।
ড. খলিলুর রহমান জানান, তিনি দায়িত্ব পেলে জাতিসংঘ সনদের নীতিমালার প্রতি অটল থাকবেন এবং বড়-ছোট সব সদস্য দেশের সঙ্গে সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবেন। বিশেষ করে সীমিত সক্ষমতার ছোট প্রতিনিধিদলগুলোর বিষয়ে বাড়তি মনোযোগ দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই কার্যকরভাবে নেতৃত্ব দিতে তিনি প্রস্তুত এবং আন্তরিকভাবে কাজ করতে চান। নিজের ভিশন উপস্থাপনায় মানবাধিকার সুরক্ষা, মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে বাধাহীন প্রবেশ নিশ্চিত করা এবং শরণার্থী ও অভিবাসী শ্রমিকদের সংকট মোকাবিলাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। এ অভিজ্ঞতা বৈশ্বিক সংহতি ও দায়িত্ব ভাগাভাগির গুরুত্বকে আরও স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এছাড়া সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আস্থা পুনর্গঠন, ঐকমত্য তৈরি এবং গঠনমূলক সংলাপের পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করার অঙ্গীকার করেন ড. খলিলুর রহমান। তার মতে, বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে হলে সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে, যাতে শান্তি, মর্যাদা ও সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাস্তব অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হয়।
জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ২ জুন নিউইয়র্কে সাধারণ পরিষদ হলে ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আঞ্চলিক রোটেশন পদ্ধতি অনুসারে এবার এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা। ফিলিস্তিন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় বর্তমানে এ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে সাইপ্রাস।





