আজ (শুক্রবার, ৫ জুন) বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ৩২ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি উখিয়ার বালুখালী এলাকার ৯, ১৬ ও ১৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।
এর আগে দুপুরে ঢাকা থেকে বিমানযোগে কক্সবাজারে পৌঁছান তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। কক্সবাজার বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
বিমানবন্দর থেকে সরাসরি উখিয়ার বালুখালী ৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান হাকান ফিদান। সেখানে তুরস্কের সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত ফিল্ড হাসপাতালের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোহিঙ্গা রোগীদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি।
আরও পড়ুন:
পরবর্তীতে প্রতিনিধি দলটি ১৬ ও ১৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে। ১৭ নম্বর ক্যাম্পে ‘তুরস্ক রেড ক্রিসেন্ট’ ও ‘তুরস্ক দিয়ানাত ফাউন্ডেশন’-এর পরিচালিত মানবিক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন তারা। পরে ১৬ নম্বর ক্যাম্পে অবস্থিত তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা সংস্থা টিকা পরিচালিত মাল্টিপারপাস এডুকেশন অ্যান্ড কালচারাল সেন্টার পরিদর্শন করেন।
সেখানে রোহিঙ্গা শিশু-কিশোরদের শিক্ষা কার্যক্রম, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করেন তারা।
সফরকালে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বর্তমান জীবনযাত্রা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং চলমান মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মাঠপর্যায়ে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের কাছ থেকেও তারা বাস্তব পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে ধারণা নেন।
প্রায় দেড় ঘণ্টার পরিদর্শন শেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে প্রতিনিধি দলটি ক্যাম্প এলাকা ত্যাগ করে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়। পরে সন্ধ্যায় ঢাকায় ফিরে যান।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আসমা, উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান, ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), র্যাব-১৫ এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা।
৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ বেলেন, ‘তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। পুরো সফর শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।’
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর থেকে তুরস্ক বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্য ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, হাকান ফিদানের এ সফর রোহিঙ্গাদের প্রতি তুরস্কের অব্যাহত সমর্থন ও মানবিক অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।





