আজ (বুধবার, ১ জুলাই) বিকেলে রাঙামাটি শহরের কাঁঠালতলীতে দলীয় কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত হাজারো নেতাকর্মীর উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যে তিনি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে বলেন, ‘বিএনপিকে নিয়ে অনেক গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে।’ ষড়যন্ত্রকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্র আর এবার বরদাশত করব না।’ একইসঙ্গে পাহাড়ে কেউ যাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সেজন্য পাহাড়ি-বাঙালি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এ সংসদ সদস্য।
গত ১ জুন শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পার্বত্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান। মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর আজই প্রথম তিনি নিজের এলাকায় পা রাখলেন।
আরও পড়ুন:
ঢাকা থেকে সড়কপথে রাঙামাটিতে আসার সময় দুপুরের পর থেকেই কাউখালীর গোদারপাড় ও ঘাগড়ায় জড়ো হতে থাকেন হাজার হাজার নেতাকর্মী। সেখানে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেয়া হয়। পরে বিশাল এক মোটর শোভাযাত্রাসহ বিকেল ৪টায় তিনি শহরের কাঁঠালতলীস্থ দলীয় কার্যালয়ে এসে উপস্থিত হন।
দলীয় কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে দেয়া বক্তব্যে দীপেন দেওয়ান দলের প্রতি তার আকুণ্ঠ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান আমাদের প্রিয় দলের নেতা। আমাদের সম্মানিত চেয়ারম্যান। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। উনার বাইরে আমরা কোনো কিছু করবো না। উনার আদেশ হচ্ছে আমাদের জন্য সর্বশেষ আদেশ।’
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দলের প্রাণশক্তি আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তৃণমূল ভাইদের সঙ্গে আছি এবং ভবিষ্যতেও তৃণমূলের সঙ্গেই থাকব। এই তৃণমূলই হচ্ছে বিএনপির আসল শক্তি।’ ষড়যন্ত্রকারীদের মনে করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমি এখনও সংসদ সদস্য আছি, আপনারা কোনো কিছু ভুলে যাবেন না। বিএনপিতে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে।’
আরও পড়ুন:
আবেগঘন কণ্ঠে দীপেন দেওয়ান আরও যোগ করেন, ‘বিএনপি হচ্ছে আমার শেষ ঠিকানা। বিএনপি হচ্ছে আমার শেষ বাংলাদেশ, বিএনপিই হচ্ছে আমার প্রথম বাংলাদেশ।’
পার্বত্য অঞ্চলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘পাহাড়ে পাহাড়ি-বাঙালি সবাই ভাই ভাই হয়ে থাকবেন। কেউ যেন এখানে এসে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সেদিকে কঠোর নজর রাখতে হবে।’ যেকোনো মূল্যে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
দীপেন দেওয়ানের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন রাঙামাটি বিএনপির রাজনীতিতে নতুন করে হাওয়া দিয়েছে। মন্ত্রিত্বের চেয়ে জনগণের ভালোবাসাই যে বড়; নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি তারই প্রমাণ বলে মনে করছেন স্থানীয় শীর্ষ নেতারা।
আরও পড়ুন:
রাঙামাটি জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম পনির বলেন, ‘মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের চাইতে সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান অনেক বেশি শক্তিশালী। এতো বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি আর ভালোবাসা প্রমাণ করে তার জনপ্রিয়তা এখনও কতটা অটুট।’
একই সুর মেলালেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভুট্টো। তিনি বলেন, ‘দীপেন দেওয়ানকে ঘিরেই রাঙামাটি বিএনপি বরাবরই সুসংগঠিত। মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পরেও নেতাকর্মীদের এই আকুণ্ঠ সমর্থন ও ভালোবাসা তারই চাক্ষুষ প্রমাণ।’
উল্লেখ্য, দীপেন দেওয়ান শারীরিক অসুস্থতা দেখিয়ে পার্বত্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন গেল ১ জুন। এর ঠিক একমাস পর ১ জুলাই নিজের এলাকায় ফিরলেন তিনি।





