‘গোসলে অনীহায়’ ৭ বছরের মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাতে রক্তাক্ত, শিক্ষক আটক

ভুক্তভোগী মাদ্রাসা শিক্ষার্থী মুজাহিদ
ভুক্তভোগী মাদ্রাসা শিক্ষার্থী মুজাহিদ | ছবি: এখন টিভি
0

নরসিংদীতে ৭ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাতে রক্তাক্ত করার অভিযোগে এক শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। আটক শিক্ষক নাজমুল ইসলাম নরসিংদীর ভেলানগর জেলখানা মোড়ে অবস্থিত মাদরাসাতুল আবরার এরাবিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী শিশু মুজাহিদ হোসেন (৭) শিবপুর উপজেলার কারারচর এলাকার জুয়েল মিয়ার ছেলে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে গোসল করতে অনীহা প্রকাশ করায় নূরানী বিভাগের শিক্ষার্থী মুজাহিদকে বেত দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন শিক্ষক নাজমুল ইসলাম। এতে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয় এবং চামড়া ফেটে রক্ত বের হয়।

পরে আহত অবস্থায় তাকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির শরীরে মারধরের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে।

আহত মুজাহিদ জানায়, গোসল না করার কারণে শিক্ষক তাকে মারধর করেন এবং ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য ভয়ভীতি দেখান বলেও অভিযোগ করে।

আরও পড়ুন:

পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করে এবং তাদের কিছুই জানানো হয়নি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে তারা জানতে পারেন।

শিশুটির ফুফু শাকিলা বেগম বলেন, ‘গোসল না করার মতো ছোট কারণে একটি শিশুকে এভাবে শাস্তি দেয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে পুরো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা নষ্ট হয়।’

এ ঘটনায় শনিবার বিকেলে শিশুটির বাবা থানায় মামলা দায়ের করলে রাতের মধ্যেই অভিযুক্ত শিক্ষক নাজমুল ইসলামকে আটক করে নরসিংদী মডেল থানা পুলিশ।

নরসিংদী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম. আর. আল-মামুন বলেন, ‘লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

এসএইচ