ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষায় নতুন কর্মসূচি আনছে ইউক্রেন

ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র
ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র | ছবি: সংগৃহীত
0

রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় নিজস্ব প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কর্মসূচির প্রস্তাব দিয়েছে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ৯ ইউরোপীয় মিত্র দেশের সহায়তায় ইউক্রেন ফ্রেইয়া নামের এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। দেশটির দাবি, কর্মসূচিটি মার্কিন প্যাট্রিয়ট সিস্টেমের অত্যন্ত সাশ্রয়ী একটি বিকল্প। এছাড়া প্যারিসে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ইউরোপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে বড় কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে ন্যাটো জোটের নেতারা।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের দাপট এবং ন্যাটো-মস্কোর উত্তেজনায় নতুন মোড়। শক্তিশালী রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে টেক্কা দিতে এবার নিজস্ব প্রযুক্তির কৌশলগত অস্ত্র উন্নয়নে বড় পদক্ষেপ নিলো ইউক্রেন।

রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি মোকাবিলা এবং ইউরোপের প্রত্তিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করতে নয়টি ইউরোপীয় দেশ ও ইউক্রেন একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র-বিরোধী জোট গঠন করেছে। গেল সোমবার প্যারিসের ‘কোয়ালিশন অফ দ্য উইলিং’ বিষয়ক বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নিজস্ব প্রযুক্তির এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কর্মসূচির প্রস্তাব দেন। প্যান-ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা কর্মসূচির আওতায় অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক অস্ত্র, সিস্টেম এবং ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হবে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘এই মুহূর্তে ইউক্রেনে রাশিয়া থেকে আসা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার উপযুক্ত অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক সিস্টেম নেই। এটাই বাস্তবতা। এটাই সত্যি। এ কারণেই আমরা অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক কর্মসূচি শুরু করেছি। এতে করে বিপুল পরিমাণে অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক অস্ত্র, সিস্টেম এবং ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করা যাবে। এই কর্মসূচির নাম দিয়েছি ফ্রেইয়া।’

আরও পড়ুন:

বৈঠক থেকে ফরাসি প্রেসিডেন্সি এমানুয়েল ম্যাঁক্রো জানান, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন, সুইডেন, ব্রিটেন এবং ইউক্রেনের নেতারা ইউরোপের নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল কোয়ালিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এছাড়া প্রথমবারের মতো ইউক্রেনকে ফরাসি প্রযুক্তির নির্ভুল গাইডেড বোমা, আকাশ প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টর এবং দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স বা অনুমতি দিয়েছে ফ্রান্স। এছাড়াও পরবর্তী প্রজন্মের ফ্রাঙ্কো-ইতালীয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের পাশাপাশি ইউক্রেনের কাছে ১৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাঁক্রো বলেন, ‘আজ বিকেলে আমরা প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে আমাদের দুই দেশের মধ্যে একটি রোডম্যাপে সম্মত হয়েছি। এর আওতায় রয়েছে বিমান প্রতিরক্ষা সিস্টেম ও পরবর্তী প্রজন্মের স্যাম্প-টি ব্যাটারির চালান এবং ইউক্রেনীয় যুদ্ধবিমান বহরের ১৬টি রাফাল জেট সরবরাহ ও সেগুলোর জন্য দরকারি অস্ত্র ব্যবস্থা। জেটগুলোর পড়ঠোম চালান ২০২৮-২০২৯ সালের মধ্যে ইউক্রেনের আকাশসীমায় মোতায়েন করা হবে। আগামী মাসে এগুলোর প্রশিক্ষণ শুরু হবে।’

জেলেনস্কি জানান, ফ্রেইয়া নামের প্যান-ইউরোপীয় অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূলত মার্কিন প্যাট্রিয়ট সিস্টেমের সাশ্রয়ী একটি বিকল্প। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা কোম্পানি ‘ফায়ার পয়েন্ট’ এটি তৈরি করবে। যার প্রতিটি মিসাইল নিক্ষেপে খরচ প্রায় ৭ লাখ মার্কিন ডলার। একটি পূর্ণাঙ্গ প্যাট্রিয়ট ব্যাটারি মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে রাডার, কন্ট্রোল স্টেশন, লঞ্চার এবং মিসাইল। সেক্ষেত্রে পুরো সিস্টেমের খরচ হয় প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার, প্রতিটি মিসাইল নিক্ষেপে খরচ হয় প্রায় ৪০ লাখ মার্কিন ডলার।

জেলেনস্কি জানান, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলার জন্য আগামী ১২ মাসের মধ্যে প্রকল্পটি গড়ে তোলা হবে।

এসএস